Translate

Showing posts with label বাংলা সাহিত্য সংগ্রহ. Show all posts
Showing posts with label বাংলা সাহিত্য সংগ্রহ. Show all posts

Sunday, 4 January 2026

কাজলা দিদি II যতীন্দ্রমোহন বাগচী II বাংলা সাহিত্য II Brain Tech Tutorial

কাজলা  দিদি
-যতীন্দ্রমোহন বাগচী

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, লেবুর তলে  থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
আমি ডাকি, - তুমি কেন চুপটি করে থাকো?

বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে-
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!

ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই;
রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?








🐦

যতীন্দ্রমোহন বাগচী 'কাজলা দিদি', 'অন্ধবধূ', 'জন্মভূমি', 'অপরাজিতা'-এর মতো বিখ্যাত কবিতা লিখেছেন, যা গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে; তাঁর কবিতা সমগ্র বলতে তাঁর লেখা 'লেখা', 'রেখা', 'অপরাজিতা', 'নীহারিকা', 'কাব্যমালঞ্চ' প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের সংকলন বোঝায়, যা মূলত পল্লিসাহিত্য ও গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ নিয়ে রচিত এবং তিনি রবীন্দ্রযুগের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতা সমগ্রের জন্য বিভিন্ন অনলাইন আর্কাইভ (যেমন ইন্টারনেট আর্কাইভ) এবং কাব্য সংকলনের বই পাওয়া যায়। [1, 2, 3, 4, 5, 6]




উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
  • লেখা (১৯০৬)
  • রেখা (১৯১০)
  • অপরাজিতা (১৯১৫)
  • বন্ধুর দান (১৯১৮)
  • জাগরণী (১৯২২)
  • নীহারিকা (১৯২৭)
  • মহাভারতী (১৯৩৬)
  • কাব্যমালঞ্চ (১৯৩১-এ অন্তর্ভুক্ত) 
বিখ্যাত কবিতা:
  • কাজলা দিদি: কন্যা ইলার মৃত্যুর শোকে লেখা, যা গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
  • অন্ধবধূ: ভাগ্যবিড়ম্বিত নারীর জীবন চিত্রিত হয়েছে।
  • জন্মভূমি: গ্রামীণ বাংলার প্রতি কবির টান প্রকাশ পায়।
  • পরাজিতা: ফুলের উপমায় নারীর করুণ অবস্থা। 
কোথায় পাবেন:
  • Wikipedia - কবির পরিচিতি ও মূল তথ্য।
  • Scribd - 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' PDF-এর জন্য।
  • Internet Archive - অন্যান্য সংকলন ও বিশ্লেষণ।
  • milansagar - বিভিন্ন কবিতা অনলাইনে পড়ার জন্য। 
মূল বৈশিষ্ট্য: যতীন্দ্রমোহনের কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ সহজ ও সরল ভাষায় ফুটে উঠেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ও শোষিত নারীর জীবন প্রাধান্য পেয়েছে। 



লেখক পরিচিতি 
🐦


যতীন্দ্রমোহন বাগচী (১৮৭৮-১৯৪৮) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও সম্পাদক (Editor)
, যিনি তাঁর গ্রামবাংলার জীবনভিত্তিক কবিতা, বিশেষত 'কাজলা দিদি'-এর জন্য বিখ্যাত, এবং 'মানসী', 'যমুনা' ও 'পূর্বাচল'-এর মতো পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচিত হন। 

পরিচিতি ও কর্মজীবন:
  • জন্ম: ২৭ নভেম্বর, ১৮৭৮, নদিয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে।
  • শিক্ষা: কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ (ডাফ কলেজ) থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
  • সম্পাদক: 'মানসী' (১৯০৯-১৯১৩), 'যমুনা' (১৯২১-১৯২২) এবং 'পূর্বাচল' (১৯৪৭-১৯৪৮) পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন।
  • অন্যান্য পেশা: বিচারপতি সারদাচরণ মিত্র ও নাটোরের মহারাজার সচিব এবং কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স কালেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
  • সাহিত্য: তাঁর কবিতায় গ্রামীণ বাংলার সহজ-সরল জীবন, প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ফুটে উঠেছে, যা রবীন্দ্রনাথের দ্বারা প্রভাবিত। 
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান:
  • কবিতা: 'কাজলা দিদি' তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা, যা পরবর্তীতে একটি জনপ্রিয় গানে রূপান্তরিত হয়।
  • প্রভাব: রবি ঠাকুরের পরবর্তী সময়ের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
  • গদ্য: কবিতা ছাড়াও উপন্যাস ও প্রবন্ধে তাঁর বলিষ্ঠ গদ্যশৈলীর ছাপ পাওয়া যায়। 
মৃত্যু: ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮। 




স্মৃতিচারণা:

আমার শৈশবের সাথে জড়িয়ে আছে এই গানটি। 
পঞ্চাশের দশকে যখন উলুবেড়িয়া কালিবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় 
একটি ভাড়া বাড়িতে আমাদের পরিবার থাকতো 
তখন ও টি রোডের উপরে 
কার্তিকদার চায়ের দোকানে মাইক্রোফোনে 
অনেক গান বাজত, যার মধ্যে এটি একটি। 


Monday, 17 November 2025

তারাপদ রায় II বাংলা সাহিত্য সংগ্রহ II Brain Tech Tutorial II Free for all


তারাপদ রায়

এ‌খন বেঁচে থাকলে বাংলা সাহিত্য কত না মণিকাঞ্চনের অধিকারী হত।

বাঙালির বড়ো দুর্দশা যে আজকে কলমের খোঁচা মেরে কথা বলতে পারে এমনটা আর কেউ অবশিষ্ট নেই। 

তিনি চলে যাওয়ায় বাঙালি এমন রঙ্গরসের স্বাদ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়ে থাকবে।

 😀

সাহিত্যিক তারাপদ রায়ের মাদ্রাজ ভ্রমণের একটা ছোটো ঘটনা ওনারই জবানিতে:

সেবার স্টেশনের কাছে যে হোটেলে উঠেছিলাম  সেখানে খাবার ব্যবস্থাও ছিলো। তা সকালে ব্রেকফাস্ট করতে নেমেছি, বেয়ারা হাসিমুখে বললো "ভানাক্কম"। ভাবলাম নাম জিজ্ঞেস করছে নিশ্চয়; উত্তর দিলাম "তারাপদ রায়"।

রাতে খেতে নেমেছি আবার সেই বেয়ারা আর আবার "ভানাক্কম"। ভাবলাম ভুলে গেছে বোধহয়; আবার বললাম, "তারাপদ রায়"।

একটু পরে এক তামিল বন্ধুকে ব্যাপারটা বলতেই সে এই মারে কি সেই মারে, বলে কিনা "ভানাক্কম" তামিল greeting .. আমাকে ওই বেয়ারা greet করছিলো নিজের ভাষায়। দেখলাম বড্ড ভুল হয়ে গেছে। 

পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট করতে নেমে আগেই বেয়ারাকে দেখে বললাম "ভানাক্কম"। বেয়ারা এক মুখ হেসে বললো, "তারাপদ রায়"।

😀






Posts

History of Paris Commune II Brain Tech Tutorial

History of Paris Commune   The Paris Commune was a radical, socialist government that ruled Paris for 72 days (March 18–May 28, 1871) follow...